বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ১২:১৬ পূর্বাহ্ন
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, সড়কে ওভারলোড বন্ধের জন্য ওজন স্কেল স্থাপন করা হয়, কিন্তু চালু হওয়ার কিছুদিন পর স্থানীয় লোকজন ও পরিবহন শ্রমিকরা আপত্তি জানালে সেটি বন্ধ রাখা হয়।
নওয়াপাড়ার ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতি রেজাউল বিশ্বাস বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমরা বলেছিলাম সারা দেশের সড়কে একযোগে ওজন স্কেল বসাতে হবে। তা না হলে নওয়াপাড়া থেকে কোনো ব্যবসায়ী ট্রাক নেবে না। আমাদের পণ্যবাহী ট্রাকগুলো নওয়াপাড়া থেকে সারা দেশে যায়। তাহলে শুধু যশোর-খুলনা সড়ক নষ্ট হচ্ছে কেন। এর কারণ হলো সড়কটি নিম্নমানের। এজন্য সওজ কর্মকর্তারা ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দায়ী।’
এদিকে ওজন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রটি বন্ধ থাকায় সড়কে চলাচলকারী যানবাহনে ওভারলোড আছে কিনা তা পরিমাপ করা যাচ্ছে না। এতে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক। প্রতি বছর তা সংস্কারে সরকারের ব্যয়ও হচ্ছে বলে দাবি সড়ক ব্যবহারকারীদের।
সওজ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, ওভারলোড গাড়ির কারণে যশোর-খুলনা সড়ক বারবার সংস্কার করা হলেও তা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। গত পাঁচ বছরে সড়কটির পেছনে অন্তত ৪৫০ কোটি টাকা ব্যয় করেছে সরকার। যশোর-খুলনা মহাসড়কের পুনর্নির্মাণকাজ শেষ হয় ২০২২ সালের জুনে। প্রকল্পটি বুঝিয়ে দেয়ার এক মাসের মধ্যেই মহাসড়কের একটি বড় অংশে রাটিং দেখা দেয়। রাটিং থেকে এখন গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। রাটিং সংস্কারে নতুন করে ১৬০ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নিয়েছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ।
সড়ক বিভাগের প্রকৌশলীরা বলছেন, এ অবস্থার জন্য নির্মাণ ত্রুটি দায়ী নয়। মূলত একই লেনে ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় লোকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যশোর-খুলনা সড়কের পালবাড়ী থেকে নওয়াপাড়া পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে রয়েছে রাটিং। বসুন্দিয়া, প্রেমবাগ, টেঙ্গুটিয়া, ভাঙ্গাগেট, উড়োতলা মোড়, রূপদিয়া, মুড়লী, পদ্মবিলা এবং অভয়নগরের নওয়াপাড়ায় রাটিং সড়ক বেশি দেখা গেছে।
বসুন্দিয়া ইউনিয়নের মেম্বার সালেক হোসেন বলেন, ‘যশোর-খুলনা সড়কটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে নওয়াপাড়া নৌ-বন্দরের জন্য সড়কটি অপরিহার্য। সরকার এ বন্দর থেকে রাজস্ব আদায় করে, তার পরও রাস্তাটি পুরোপুরি ঠিক হলো না।’
এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর যশোরের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আরিফ মাহমুদ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘যশোর-খুলনা সড়কে ওভারলোডেড বন্ধ করার জন্য ওজন স্কেল স্থাপন করা হয়। চালু হওয়ার কিছুদিন পর স্থানীয় লোকজন ও পরিবহন শ্রমিকরা আপত্তি জানান। নওয়াপাড়ার ব্যবসায়ী ও ট্রাক শ্রমিকরা একদিন এসে বন্ধের দাবি জানিয়ে ওজন স্কেলের কর্মচারীদের মারধরও করে। নিরাপত্তা চেয়ে বিষয়টি প্রশাসনকে জানালে তারা তেমন ব্যবস্থা নেয়নি। এরপর বিষয়টি সড়ক অধিদপ্তরে জানালেও তারা স্থানীয়দের বুঝিয়ে চালু রাখার নির্দেশনা দেন কিন্তু স্থানীয় ব্যবসায়ীদের আপত্তিতে এখন বন্ধ রয়েছে।’
এ ব্যাপারে যশোর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘সড়কের এই দায় সবাইকেই নিতে হবে। শুধু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নয়; যারা সড়কটি ব্যবহার করছেন তাদেরও। ৩০ টনের ধারণক্ষমতার সড়কে চলছে ৫০ টন লোড নিয়ে। এত ওভারলোডের কারণে সড়কটির এই অবস্থা। সড়কটির রাটিং সংস্কারে বুয়েট, সড়ক ও জনপথ বিভাগের পরামর্শে ১৬ কিলোমিটার ঢালাই করা হবে। এরই মধ্যে প্রথম ধাপে ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে চার কিলোমিটারের কাজ শুরু হয়েছে, ঢালাই শেষ হলে সড়কে যাতায়াতে সমস্যা হবে না।’
ওয়ে স্কেলটি বন্ধ রাখা হলো কেন—এমন প্রশ্নের জবাবে নির্বাহী প্রকৌশলী গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘স্কেলটি চালু হওয়ার পর স্থানীয় ট্রাক মালিক ও শ্রমিকরা আপত্তি জানান। এরপর সেটি আবার বন্ধ করে রাখা হয়। ওই অবস্থায় পড়ে আছে।’
তাহলে পণ্যবাহী যানবাহনের ওভারলোড পরিমাপ করার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান এখন কোনটি—এমন প্রশ্নের বিষয়ে তিনি কিছু জানাতে পারেননি।